ছিলে তো কোনো এক মহাপ্রয়াণে মুহাম্মাদ ইমরানের কবিতা

 

ছিলে তো কোনো এক মহাপ্রয়াণে’ 

এই তো সেদিন আমাতেই ছিলে ।
ছিলে ভীষণ রকমের ‘অধুনা ব্যস্ততায়’
রাগ-গোসসায়, লোভে-ক্ষোভে, অভিমানেও ।
ছিলে খেয়ালে, বেখেয়ালে, দস্যুতায়’
ছিলে সবুজে, সন্দেহে, আত্মিকতার দ্রোহে
ছিলে চোখের উঠানের বিনিদ্র রজনীর পরে
নীলাম্বরী মণিহারপুরে
নজরুলের ‘ প্রিয় কাজী মতিহারে’ ।

নাতিদীর্ঘ ছোঁয়ায় কেমন যেন ছিলে
অতিদূর চুম্বনেও শক্তপোক্ত ছিলে ।
ধরিত্রীর মাঝে আমি ছিলাম অবমুক্ত ধাঙড়
তোমাকে বিমুগ্ধ রাখাটাই ছিল যার
সমবেত অহঙ্কারের নোঙর ।

ছিলে আমার ঠাকরুন
ছিলে আমার পূজার রসদের ব্যঞ্জন ।
আমি তোমার সৌন্দর্যের পুষা কুক্কুর ছিলাম
আমি তোমার একনায়কতান্ত্রিক
ষড়যন্ত্রের মন্ত্রমুগ্ধ বানর ছিলাম ।
কী ছিলে না তুমি আমার ?
আমার দেমাক ছিলে তুমি
হাড় কাঁপানো শীতের মোটা কম্বল ছিলে তুমি ।

আপাতত আমি, রঙিলা রূপবান ।
আমি উন্মুক্ত, মুক্ত বিহঙ্গ, কেউ নেই আমার
আমি প্রমত্ত সাগর, চলি বহমান ।
আমার নাম এখন ‘ছুটি’
কুটিল ভূমে ঘুরেফিরি দিনমান ।

আমি এখন নিজেই একটা সুখের পুটলা’
তুমি কোথায় থাকো, কোথায় তোমার ঘর ,
কোন বেটার বুকের দুর্গন্ধ শুঁকো,
না আবার ঘুমের ভান ধরে থাকো,
কী করো, কী করো না, কই আছ, কেমন আছ ‘
ওসব নিয়ে, নেই আমার কোনো জটলা ।

আমি চিৎকার করে বলতে চাই’
আমি শান্তিতে আছি
মহাকালের পর তথাকথিত এক ‘শান্তি’ ।
আমি চিৎকার করে বলতে চাই’
আমি স্বস্তিতে আছি,
বহু পুরাণের পর তথাকথিত এক ‘স্বস্তি’ ।

মুহাম্মাদ ইমরান
০৮ ১১ ২০১৬

এবার তবে মুক্তি দাও মুহাম্মাদ ইমরানের কবিতা

 

এবার  তবে মুক্তি দাও  

অনেক হয়েছে, এবার মুক্তি দাও
অনেক সয়েছি, এবার ছেড়ে দাও ।
হুম, আমি জানি আমি ভুল করেছি
ভুল অমানুষকে ভালোবেসে
ভুল আত্মাকে কাছে টেনে ।

না না’ আমার কোনো আপত্তি নেই
আমার কখনো কেউ ছিল না
এখনো কেউ নেই ।
তোমাদের এই রঙ্গমঞ্চের
আলাদা একটা ভাষা আছে
তোমাদের যাপিত সমাজ ব্যবস্থার
অভিন্ন একটা রূপ আছে ।

রূপটা স্বার্থের তাগাদা পূরণের
হাসিমুখে অনর্গল মিথ্যা বলার,
গরীবের পয়সা চুষে নেওয়ার ,
নিশিদিন ভালো মানুষের অভিনয় করার ।

তোমাদের চরিত্রের বাইরে
আরও একটি চরিত্র বিদ্যমান,
কাম তার নাম অথবা যৌনতা
শাড়ির মাঝে হাঁ করে তাকিয়ে থাকার
স্বতঃস্ফূর্ত প্রবণতা নচেৎ মদ্যপান ।

মানতে কোন বাধা নেই – তোমরা যোদ্ধাজাতি ,
তোমরা বীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ।
জীবন্মৃত সব বাঙলা প্রাণীর হুঙ্কার
তোমরা ১৬ কোটি বাঙালির দম্ভোক্তি
আত্মিক প্রশান্তি, চূড়ান্ত অহঙ্কার ।

আবার তোমরা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাও
মাসিক ভাতা খাও
তাকবিরুল্লাহর সহিত
০৫ ওয়াক্ত নামাজও পড়ো
কথায় কথায় ৭১ এ ফিরে যাও ।

মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও
হয়েছ তুমি আগুয়ান
হানাদার ধ্বংস করতে
তুমি পিছপা হওনি মোটেও
অকুতভয় জাওয়ান ।
রাইফেল বইবার ক্ষত
এখনও তোমার কাঁধে অক্ষত–

বানিয়ে বানিয়ে কী সুন্দর গল্প সাজাও
দাদীমার রূপকথার ঝুলিকেও হার মানাও ।
বাটপারও তোমার কাছে মেনেছে হার
৩০% কোটা ছাড়া কী হত না তোমার ?
ওহে ভণ্ড, গর্বিত জানোয়ার
কোন ভূষণে সাজবে তুমি ,
কোন কাফনে বাঁধবে তুমি ,
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, বীর কুলাঙ্গার ।

ও’ দুবাই ফেরত কম্বলওয়ালা !
দেখা হয়েছি কী কখনো
চাঁদের নিচে লুকানো
টার্মিনালে কুচিমুচি হয়ে
শুয়েথাকা বুড়ির থর থর কাঁপন
দেখা হয়নি বুঝি, টোকাই আর কুকুরের
গলাগলি ধরি অভিশাপের
রাত শেষ না হওয়ার রাত্রি যাপন ।

পার্থক্য কোথায় জানতে চাই,
তাঁরা কী তোমাদের থেকে
আলাদা কিছু ভাই ।
হুম ! তাঁরাও মানুষ তবে শুধু দেখতে–
সাহিত্যিকের ভাবনা জুড়ে
পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা ভরে
কোটিপতির ০৬ তলার পরে
দৃষ্টিকটু একটি ছোট
ছোনের ঘরের তরে ।

অনেক তো হলো এবার দাও যেতে
এত সংক্ষিপ্ত পরিসরে
কেবলই নিজ’কে নিয়ে
পড়ে থাকার কলেবরে
কী চাও অভাগার দল খামাখা
দৃষ্টি জুড়ে তোমাদের টিআর,
রিলিফের চাল আর কাবিখা ।

তোমাদের কী অসুখ করে না, তোমরা কী মৃত্যুহীন প্রাণ ?
রোজ হাশরের ময়দানে দাঁড়াবে না তুমি, সন্মুখ রহমান । ।

মুহাম্মাদ ইমরান
১৯ ১০ ১৬

 

মা’ তফাত কিসের ? মুহাম্মাদ ইমরানের কবিতা

 

মা’ তফাত কিসের ? 

মা’ কিসের তফাত ‘
তোর আর দ্যাশে
তফাত শুধু মুখের বুলি
পাই না তো অনুভবে ।

বল, মা’ তফাত কোথায়
জন্মে না বেড়ে উঠায় ?
তোরে ডাকি মা’ তাঁরে পারি না
সে আছে জড়ায়ে চেতনার গন্ধে
বিশ্বাসের তোপে, মেঠোপথ খুঁড়ে
আছে তাড়িত আবেগের সকল রন্ধ্রে ।

মা’রে’ তুই বিভাজন করিস না
তুই ডাক দেস বাজান
সে’ তো পারে না ।
সে আছে রক্তকণিকায় ,
লাল সবুজের পিঞ্জরায়
গহীন পরান ভরিয়া,
আছে অস্তিত্বের দ্রোহে
শীতল চক্ষুজুড়িয়া ।

তাঁকে ঘিরেই ছবি আঁকি
তাঁর মাঝেই বেড়ে উঠি
আশাহত হলে সে ভরসার পাল তুলে
দেয় সপ্নের চাষ, সেও যে আমার মা
অদেখা, রঞ্জিত আবেগের অশরীরী মা।
তাঁর শুধায় শোধিত হয়েই,  তোরে ডাকি মা,
খবরদার খবরদার বারণ করিস না ।

লক্ষ্মী মা’ আমার, অমন করিস না
সব বোধের বহিঃপ্রকাশ থাকে না ।
সব ভালো লাগা ব্যক্ত করা যায় না,
সব ভালোবাসা বোঝানো যায় না
সব শান্তির আদ্যোপান্ত খুঁজতে হয় না
সব অনুভুতির প্রকাশ সার্থক হয় না।
সব চোখের পানি নিলামে উঠে না।
সব প্রেম প্রেমজ্বরে আক্রান্ত হয় না
সব প্রেম প্রেমবাজারে বিক্রি হয় না ।

মুহাম্মাদ ইমরান
০২ ১০ ১৬

আমার একটা বদভ্যাস আছে মুহাম্মাদ ইমরানের কবিতা

 

আমার একটা বদভ্যাস আছে  

আমার একটা ভয়ংকর বদভ্যাস আছে
দুপুর এলেই আমি
এলিয়ে-দুলিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

কিন্তু আজ ঘুম নামক ছলনার প্রশান্তি
তার সহজাত তাণ্ডব চালাতে পারেনি,
নির্লজ্জ, বেহায়ার মতো বহুক্ষণ
আমি অবাক হয়ে বসে ছিলাম !

অনেক ক্ষমতা তোমার, না !
কী করতে পারো তুমি ?
অকর্মা, অথর্ব, হতচ্ছাড়া
কোনো বেকারকে
ভুল করে একটা ভুল স্বপ্ন
দেখাতে পেরেছ ?

সবুজ-অবুঝ, ন্যায়ের বাণে,
অন্যায়ের তোপে
তোমাকে কোথাও পাওয়া যায় না ।

সৃষ্টি, দৃষ্টি, বৃষ্টি, অনাচার, অত্যাচার,
হত্যায়, লোভে, ক্রোধে, ভুলের ভুলে,
গরিমায়, গৌরবে, ত্যাগে–
কোথায় আছ তুমি, বলো তো  দেখি ?

সূর্যের আলো দেওয়া কী বন্ধ হয়ে গেছে ?
চাঁদের অল্পস্বল্প আলোর মূর্ছনায়
নবদম্পতির নয়নাভিরাম মাদকাসক্ত
ঢলাঢলি কী থমকে গেছে ?

কই খুনোখুনি তো বন্ধ করতে পারোনি ?
এমনকি চুরুটের শেষ টানের সুখটা
পর্যন্ত রুখতে পারোনি !
শুধু পেরেছ, আমার মতো একটা
নির্ভেজাল অপদার্থর সাথে ।

মুহাম্মাদ ইমরান
১৯ ০৪ ১৬

অতঃপর মানিয়া লইলাম মুহাম্মাদ ইমরানের কবিতা

 

অতঃপর মানিয়া লইলাম  

মেনে নিয়েছি  জীবন মানেই
সকাল হলেই ১০ টা-০৫টা ।
মেনে নিয়েছি,  কাউকে কিছু
না বলে হুট করে বাবার
কোথায় যেন হারিয়ে যাওয়া ।

মেনে নিয়েছি, এক’পা-দু’পা করে
মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া
মেনে নিয়েছি, এক হাত মাটির জন্য
মায়ের পেটের ভাইয়ের
হঠাৎ করেই বদলে যাওয়া ।
মেনে নিয়েছি  বউ’র কাছে
হাতপা গুটিয়ে চুপচাপ
ভোলানাথ বাবু সেজে বসে থাকা ।

মেনে নিয়েছি স্বপ্নচারিণী হয়ে থাকা
মানুষটার দিব্যি সংসার পাতা,
মেনে নিয়েছি, চার বেহারার পালকি
আর কলেমার ধ্বনি
সাদা একটা কাপড়ের সাথে
জনম জনমের মিতালী ।

মেনে নিয়েছি যত কান্না
অসহায় বাস্তবতা
মেনে নিয়েছি না’ মানার যত সব গল্প
মানতে হবে আমাকে অনেক কিছুই
যা আমি মানবো না কোনোদিনই …………. !!!