শ্রাবণের কান্নাভেজা রাতে চৌত্রের খরতাপে মিশে গোধূলির বিষণ্ণ বেলায়’ ফিরে এসো ফিরে এসো শরতের এক স্নিগ্ধ সকালে আয় ফিরে আয় বসন্ত’ আর একটিবার দাও দাও দাও মরণের অধিকার ।
কাকডাকা ভোরে নয় তো ঘোর তিমিরে উদাস দুপুরে ফিরে আসো ফিরে এসো সন্তানহারা মায়ের চোখের জলে বেয়ে ।
আমি রাখতে পারিনি তোমার মান লক্ষ্মী তুমি করো না অভিমান । আসবে তুমি আসবে সত্যি আবার ফিরে চার বেহারার পালকি আর কলেমার ধ্বনিতে ।
আমি জানতে চাই আমাকে আর কী করতে হবে ? কী করলে আমার মুক্তি মিলবে আমার স্বাভাবিক প্রায়শ্চিত্ত জুটবে আমি জানতে চাই ?
একটাই তো মানবী অথচ কত শ্রম ! কখনও চৌত্রের খরতাপে পুড়তে পুড়তে অঙ্গার হয়ে গিয়েছি । কখনো বৃষ্টি অথবা শিলাবৃষ্টি হয়ে তামাম দুনিয়াকে ভিজিয়ে দিয়েছি অথচ পারলাম না আমি ভিজতে !
এখনও নষ্ট দুপুরে আঁতকে উঠি লাজুক বিকেলকে নির্লজ্জর মতো এড়িয়ে যাই, গভীর রজনীতে নিজেকে নিজে, সান্ত্বনা দিতে দিতে সান্ত্বনা শব্দটার প্রতি ঘেন্না ধরিয়ে দেই ।
কী না করেছি আমি ! হুজুরের বশীকরণ তাবিজ কবরের পর কবর পুঁতে যেতাম; কালো কুকুর, মরা ঘাট, আম গাছ, ডালিম গাছ, শুকুর ফকির থেকে শুরু করে মৌলভিডাঙ্গার পীর সাব’ কার কাছে যাইনি আমি ?
একজন সাধারণ মানুষের মতো বেঁচে থাকার আকুতি নিশ্চয়ই অসাধারণ কিছু নয় ? সেই সাধারণের সুখানুভূতির সত্তাটুকুন কতটা মূল্যে খরিদযোগ্য আমি জানতে চাই ?
হেঁয়ালি বিকালে বেখেয়ালে হারিয়ে যেতে চাই ঐ দূর দিগন্তে। রঙধনুর লীলা দেখে চিৎকার করতে চাই রাত ১০ টা হলেই সুবোধ বালকের মতো তন্দ্রার ঘোরে হারিয়ে যেতে চাই ।
খুব সাধারণ হয়ে বেঁচে থাকার জন্য আমাকে কী কী জলাঞ্জলি দিতে হবে বিনয়াবনতার সাথে আমি জানতে চাই ?